হাঁচির সঙ্গে বেরিয়ে এল এক ঝাঁক করোনা। পড়ল একটি টেবিলের উপর।
তরুন টগবগে কয়েক লক্ষ করোনা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে।
চোখ ভরা স্বপ্ন, নিজেদেরকে ছড়িয়ে দেয়ার, বিশ্বকে কাঁপিয়ে দেয়ার।
কয়ের ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। কোন মানুষের দেখা মিলল না।
কিছু কিছু করোনা অসুস্থ্য হয়ে পড়ল। তারপর মরে যেতে লাগল।
পরদিন আসতে আসতে অর্ধেকের বেশী মরে গেল।
সবার চোখেমুখে হতাশা। যত সময় যাচ্ছে ততই কমে যাচ্ছে তাদের সংখ্যা।
পরদিন যখন মাত্র কয়েকশত করনা মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে তখন একজন মানুষের হাত পড়ল এই টেবিলে।
সুযোগের সদ্ব্যবহার করল একদল করোনা। তারা উল্লসিত হল।পরক্ষনেই আবার চিন্তিত হল, কারন লোকটি মনে হয় হাত ধুতে যাচ্ছে।
তারা প্রার্থনা করল, হে আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা কর।
সাবান পানিতে আমাদের বড্ড ভয়। আমরা গলে যাব, মরে যাব।
লোকটি হাত ধুলো...
কিন্তু তার আগে অভ্যাস বশতঃ একটুখানি নাকে হাত দিল।
এই সুযোগে একদল করোনা ঢুকে গেল নাকের ভিতর।
কেউ কেউ নাকের লোমের সঙ্গে ঝুলতে লাগল।
কেউ বা পৌঁছে গেল কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য মিউকাস ঝিল্লিতে।
সময় নষ্ট না করে তারা মিউকাস ঝিল্লি ফুটো করে ফেলল।
ঢুকে গেল রক্ত স্রোতে। লোকটির শরীরের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত সৈনিকরা ছুটে এল।
আক্রমণ করল তাদের। ভয়ানক যুদ্ধ হল। অনেক ক্ষয় ক্ষতি হল দুই পক্ষের।
করোনার দল যখন ছিন্ন ভিন্ন, দিশেহারা তখন দু-তিনটি করোনা সব প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করে কোন ক্রমে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ঢুকে গেল একটি কোষের ভিতরে।
তারপর আর তাদেরকে পায় কে?
কোষের প্রোটিন তৈরির কারখানাটি খুঁজে পেতে আর বেগ পেতে হল না।
মুহূর্তে তৈরি করে ফেলল লক্ষ লক্ষ করোনা। আবার ফিরে এল রক্ত স্রোতে।
তারা এখন আবার লক্ষ লক্ষ।
সারা শরীর দাপিয়ে বেড়াতে লাগল।
শ্বাসনালীতে আর নাকে সুরসুরি দিল।
লোকটির জ্বর হল, কাশি হল, হাঁচি হল।
তারা দলে দলে আসতে লাগল তার নাকে আর গলায়।
হাঁচি আর কাশির সঙ্গে বেরিয়ে পড়ার জন্য—নতুন কারো সন্ধানে, বংশ বিস্তারের নেশায়।
অতএব, হাত না ধুয়ে নাকে-মুখে হাত নয়।
(সংগৃহীত)
Its a social awareness Content Of This Page